নিউজপ্রেসবিডি । NewsPressBD
সত্য, সম্পূর্ণ সত্য এবং কেবলমাত্র সত্য

বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন – পুলিশের হাতে ক্ষমতা অপব্যবহার হওয়ার আশংকা – সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মীদের

২৩

বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: পুলিশের হাতে ক্ষমতার অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীদের

রবিবার বিবিসি বাংলার এক খবরে বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পরোয়ানা বা অনুমোদন ছাড়াই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে পুলিশকে । এই আইন বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সমর্থিত সাংবাদিক ইউনিয়নও আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই আইনের মাধ্যমে সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের হাত- পা বেঁধে দেয়া হচ্ছে। লেখনী বন্ধ করা হচ্ছে।

ছবি – বুলবুল আহমেদ

- বিজ্ঞাপন -

বাংলাদেশের সংসদে পাশ হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কোন পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশকে গ্রেফতারের যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, সেটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করবে বলে আশংকা করছেন সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীরা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রস্তাবে পরোয়ানা ছাড়া পুলিশকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল যেই ধারার অধীনে, সেই ধারায় সংসদীয় কমিটি প্রস্তাব করেছিল যে পরোয়ানা ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা বা ব্যক্তিমালিকানাধীন ডিজিটাল ডিভাইস তল্লাশি বা জব্দ করার ক্ষেত্রে সরকারের ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। শেষমুহুর্তে মহাপরিচালকের অনুমোদন নেয়ার বিধানটি বাদ দিয়ে সংসদে পাস হয়েছে বিলটি।

এই আইনের বলে, একজন পুলিশ অফিসার এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সন্দেহভাজন ব্যক্তির ব্যবহার করা ডিজিটাল ডিভাইস তল্লাশি ও জব্দ করাসহ ঐ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করতে পারবেন।

এখন প্রশ্ন উঠেছে কেন বাদ দেয়া হলো মহাপরিচালকের অনুমোদন নেয়ার বিধান?

মহাপরিচালকের অনুমোদনের বিধানটি কোন যুক্তিতে বাদ দেয়া হলো, সেবিষয়ে বাংলাদেশের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, একটি ঘটনা ঘটার সময় পুলিশের যদি মহাপরিচালকের অনুমতির অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে অন্তত ডিজিটাল অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। মি. জব্বার বলেন অপরাধ সংঘটনের সময় যেন পুলিশ আমলাতান্ত্রিক জটিলতার শিকার হয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্যেই বাদ দেয়া হয়েছে মহাপরিচালকের অনুমোদনের বিধানটি। মি. জব্বার বলেন, অপরাধ সংঘটনের সময় পুলিশ যদি পদক্ষেপ নিতে না পারে, তাহলে তো অপরাধ সংঘটিত হয়েই যাবে, সেটিকে আর থামানো যাবে না।

এই আইনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মীসহ নানা পক্ষ। নতুন আইনে বলা হয়েছে অনলাইনে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না

সাংবাদিকদের আপত্তি কী নিয়ে?

সাংবাদিকরা বলছেন পুলিশ অফিসারের হাতে এই পরিমাণ নির্বাহী ক্ষমতা থাকলে সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা খর্ব ও নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হয়রানির সম্ভাবনাও থাকে। সম্পাদকদের পরিষদ ‘এডিটরস কাউন্সিল’এর সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, এই আইন বাস্তবায়িত হলে একজন পুলিশ অফিসারের চিন্তায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নির্ভর করবে। পত্রিকায় কি ছাপানো হবে, তার ফলে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার হতে হবে কিনা – এসব বিষয়ে একজন পুলিশ অফিসার শুধুমাত্র সন্দেহও যদি পোষণ করেন তবুও একজন সাংবাদিকের স্বাধীনতা বিঘ্ন হয়। মি. আনাম মন্তব্য করেন শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা বা তাঁর ব্যবহারের ডিজিটাল ডিভাইস বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি করার ক্ষমতা একজন পুলিশ অফিসারের হাতে অর্পণ করা উচিত নয়।

তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর মতে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা এই ধারার অপব্যবহারের সুযোগ নেই। মোস্তাফা জব্বার বলেন, একজন পুলিশ অফিসার আইনের অপব্যবহারও করলেও চূড়ান্ত বিচার করার ক্ষমতা তো তাঁর নেই। বিচার তো আইন অনুযায়ী আদালতই করবে। কাজেই এই ধারার অধীনে আইনের অপব্যবহারের সুযোগ নেই। পাশাপাশি এই আইন থেকে সাংবাদিকদের বাদ রাখার যে আবেদন করা হয়েছিল তা বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী।

Iবাংলাদেশের কয়েকজন মন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন সম্পাদকরা । তবে বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে এই ধরণের নির্বাহী ক্ষমতা দিলে আইনের অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, তাৎক্ষণিকভাবে বিনা পরোয়ানায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হলে সেই ক্ষমতার ভীষণরকম অপব্যবহার হয়। বাংলাদেশের সংবাদপত্র সম্পাদকদের একটি সংগঠন এরই মধ্যে নতুন এই আইনের বিরুদ্ধে ২৯শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মানব-বন্ধন কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা অনুমান করব আপনি এর সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি যদি চান তবে আপনি অপট-আউট করতে পারেন। স্বীকারআরও পড়ুন