নিউজপ্রেসবিডি । NewsPressBD
সত্য, সম্পূর্ণ সত্য এবং কেবলমাত্র সত্য

যাদের যাত্রা ভঙ্গ হলো

নির্বাচন থেকে যারা বাদ পড়লেন তারা হলেন হেভিওয়েট খালেদা জিয়া, কাদের সিদ্দিকী, নাজমুল হুদা, রুহুল আমিন হাওলাদার, গোলাম মাওলা রনি, আমান উল্লাহ আমান, আফরোজা আব্বাস ও রেজা কিবরিয়ার মনোনয়নপত্র । ভাগ্য এদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে , নাকি রাজনীতির দৌড়ে তারা পিছনে পড়ে গেছেন। এতে নির্বাচন কমিশনের যেমন কিছু করার নেই, তেমনি কারও কাছে এই নিয়ে দেনদরবার বা তদবির করেও কোন লাভ নেই। এ হচ্ছে রাজনীতির খেলা।

এদের বিরুদ্ধে কীসব অভিযোগ! মামলায় দণ্ড আর খেলাপি ঋণ, তথ্যে অসঙ্গতিসহ বিভিন্ন কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ থেকে ছিটকে পড়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ কয়েক ডজন নামীদামী প্রার্থী। আর কিছু করার নেই। যেন মামলায় হেরে যাওয়ার মতই। আদালতের রায়কে অমোঘ সত্য বলেই মেনে নেয়ার কোন বিকল্প নেই। রবিবার সারাদেশে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বাদ পড়াদের নাম বেরিয়ে আসে। অতঃপর বাদ পড়াদের নাম প্রকাশ করা হয়। এবার তফসিল অনুযায়ী ২৮ নভেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় পর্যন্ত সারা দেশে ৩৯টি দলের মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মোট ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এবার ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র। বাছাই শেষে বাদ পড়ে। ফলে বৈধ প্রার্থী হিসেবে এখনও মনোনয়নের দৌড়ে থাকছেন ২ হাজার ২৭৯ প্রার্থী।বিধি অনুযায়ী, বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীরা তিন দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সেসব আপিল নিষ্পত্তি করা হবে এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরদিন প্রতীক বরাদ্দ হলে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামতে পারবেন। সব প্রস্তুতি শেষে ৩০ ডিসেম্বর হবে একাদশ জাতীয় সংসদ মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষে এবার তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা দুর্নীতি মামলায় দুই বছরের বেশি সাজা হওয়ায় ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন ।খালেদার অবর্তমানে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে রইলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। খালেদার বিকল্প হিসাবে ফেনী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্রের বৈধতা পেয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু।খালেদার পাশাপাশি তার বিকল্প প্রার্থী গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোরশেদ মিল্টনের মনোনয়নপত্রও বাতিল হওয়ায় বগুড়া-৭ আসনে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী থাকছে না। ।

- বিজ্ঞাপন -

বেগম জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল– সরকারের নীল নকশারই অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভি।সরকারবিরোধীদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অনেক ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী বাদ পড়ায় বিএনপি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কেবল বেগম জিয়া নয়, ‘বেছে বেছে’ তাদের জনপ্রিয় প্রতিনিধিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হচ্ছে। তার বক্তব্যর ব্যাখ্যায় রিজভি বলেন, এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দুরভিসন্ধিমূলক। বেগম খালেদা জিয়ার যে বিপুল জনপ্রিয়তা, সেই জনপ্রিয়তা থেকে তাকে দূরে রাখার যে মাস্টারপ্ল্যান সরকার করেছে, সে নীল নকশার অংশ বলে আমরা মনে করি।
এব্যাপারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলেছে, দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের মধ্য দিয়ে ‘সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ’ নিশ্চিত হয়েছে।রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকারও প্রমাণ মিলেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত উপকমিটির চেয়ারম্যান ফারুক খান।রবিবার নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, এটাই লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ড। আইন সকলের জন্য এক। কোনো একটি দলের প্রধান হলেই তার জন্য তো আইন অন্য রকম হবে না। এতে প্রমাণিত হয় যে, বাংলাদেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে।

অন্যদের মধ্যে পটুয়াখালী-১ আসনের বর্তমান সাংসদ জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে ‘ঋণখেলাপি’ হওয়ার কারণে। টাঙ্গাইলের দুটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকীর। তার যাত্রা ভঙ্গ হয়েছে। ভোটের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়া সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা কাদের সিদ্দিকীর টাঙ্গাইল-৪ ও ৮ আসনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ঋণ খেলাপের অভিযোগে।টেলিফোন বিল বকেয়া ও ঋণ খেলাপি হওয়ায় ঢাকা-৯ আসনে ধানের শীষের টিকেট পাওয়া মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। ঢাকা-২ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর সাজা হওয়ার কারণে। । ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও কামরাঙ্গীর চরের এই আসনে মনোনয়নপত্রের বৈধতা পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকছেন আমানের ছেলে ইরফান ইবনে আমান অমিত।ঢাকা-১৭ আসনে জমা দেওয়া ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন ঢাকা মহানগরের রিটার্নিং কর্মকর্তা।মনোনয়নপত্রে কোনো দলের নাম কিংবা স্বতন্ত্র হিসাবেও উল্লেখ না থাকায় তৃণমূল বিএনপি প্রধানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায় ।

ঢাকা-২০ আসনে ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহম্মেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।বিএনপি প্রয়াত নেতা নাসিরুদ্দিন পিন্টুর স্ত্রী ঢাকার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার নাসিমা আক্তার কল্পনা ঢাকা ৭ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেলেও তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে খেলাপি ঋণের কারণে।ঢাকা ৬ আসনে ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনের মনোনয়নপত্রও এক লাখ টাকা ঋণ খেলাপির কারণে বাতিল হয়েছে। এছাড়া মোরশেদ খান, মীর নাছির, আসলাম চৌধুরী, গিয়াস কাদের চৌধুরীসহ বিএনপির ১১ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে

একই কারণে ঢাকা-৫ আসনে বাদ পড়েছেন বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া।ভোটের মাঠে এসে টিকতে পারলেন না আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। ক্রেডিট কার্ডের ঋণ বকেয়া থাকায় হবিগঞ্জ-৩ আসনে গণফোরামের এই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।একই আসনে সংরক্ষিত নারী আসনের বর্তমান সাংসদ আওয়ামী লীগের আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, বাতিল হয়েছে হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় তাও বাতিল হয়েছে।‘হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায়’ভোটের আগে বিএনপিতে আসা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে জমা পড়া ১৮০টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৪১টি বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর মধ্যে ১১টিই বিএনপি নেতাদের।যুদ্ধাপরাধে ফাঁসির দড়িতে ঝোলা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বাদ পড়েছেন খেলাপি ঋণের কারণে।গিয়াসের সঙ্গে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির টিকেট পাওয়া তার ছেলে সামির কাদের চৌধুরীর মনোনয়নপত্রও একই কারণে বাতিল হয়েছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপি নেতা মীর মো. নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে মীর মো. হেলাল উদ্দিন দুজনেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। দুর্নীতি মামলায় সাজার কারণে দুজনের প্রার্থিতাই বাতিল হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সাবেক মন্ত্রী মোরশেদ খান খেলাপি ঋণের কারণে এবং আরেক বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ ব্যাংক হিসাব না খোলায় অযোগ্যে বলে ঘোষিত হয়েছেন।চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-কাট্টলী) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন পত্র ঋণ খেলাপের কারণে বাতিল হয়েছে।

আরও যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করনা হয়েছে তারা হরলন রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফা, নাটোর-২ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার।অবশ্য সদর ও নলডাঙ্গা এলাকা নিয়ে গঠিত ওই আসনে দুলুর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের মনোনয়নপত্র বৈধতা পেয়েছে।ভোটারদের এক শতাংশ সমর্থনে ‘ত্রুটি থাকার’ কারণে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা অনুমান করব আপনি এর সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি যদি চান তবে আপনি অপট-আউট করতে পারেন। স্বীকারআরও পড়ুন