নিউজপ্রেসবিডি । NewsPressBD
সত্য, সম্পূর্ণ সত্য এবং কেবলমাত্র সত্য

সংলাপের নামে আরও আলোচনার ফল নিয়ে সন্দেহ

১২

সংলাপের নামে আরও আলোচনা কোন ফল এনে দেবে এমনটা মনে হচ্ছে না। এর আগে তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে যেমন বিদেশীরা দূতিয়ালীর ভূমিকায় নেমেছিলেন এবার কিন্তু সেরকম কোন দুতিয়াল নেই। ফলে কারও কোন অনুরোধে সরকার বা আওয়ামী লীগ আবার আলোচনায় আসবে এমন ধারণ করার কোন অবকাশ নেই। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে শেষ সময়ে সরকার তাড়াহুড়ো করে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার চেষ্টা করতে পারে। আর ওই অবস্থায় বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনে আসার কোন বিকল্প পথ থাকবে না। তাছাড়া ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে থাকতে হবে। বিএনপি কোন পথটি বেছে নেবে? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে শেষমেশ বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের বাইরে থাকবে না। তা হলে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের একটা চরম জনবিচ্ছন্নতা সৃষ্টি হবে। সংলাপের প্রশ্নে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আসম আবদুর রবের নেতৃত্বে জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব কমছে বলেই মনে হচ্ছে। সরকারের পক্ষে ওবায়দুল কাদের বলে দিয়েছেন সংবিধানের বাইরে তারা কিছু করবেন না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবি পূরণ করার প্রশ্নই আসেনা। ফলে সংবিধান অনুসরণ করে বেশীসংখ্যক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নতুন ধাঁচের আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়ে যেতে পারে। এটি গ্রহণযোগ্যতাও বেশী পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এবারের নির্বাচনে বাম এবং ডান দলগুলোর অধিকাংশই অংশ নেবে। মাওলানা আহমদ শফিসহ ইসলামী দলগুলার সঙ্গেও দূরত্ব কমে আসছে সরকারের। সব মিলে এবার ভোট ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এটি হবে আওয়ামী লীগের জন্যে একটি ইতিবাচক পরিবেশ। বিএনপি নির্বাচনে না এলে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারের কিছু করার থাকবে না। সরকার এমটিই মনে করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছেও তখন সরকার বলতে পারবে ‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে। কিন্তু তারা আসেনি’। সরকার আবারও সংলাপে বসে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের প্রতি নমনীয় হবে এমন ভাবনার কোন অবকাশ নেই। বরং করলে তা হবে সরকারের জন্যে আত্মঘাতী। জেনেশুনে বিষপান করবে না আওয়ামী লীগ এমনটিই ধারণা করা হচ্ছে।।

সংলাপ: অসন্তুষ্ট বিএনপি এখন কী করবে? বিবিসি’র প্রশ্ন

- বিজ্ঞাপন -

বিবিসি’র খবরে বলা হয়, ঢাকায় সরকারের সাথে সংলাপের ফলাফল নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুল শরিক বিএনপি এখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। দলটির নেতারা বলেছেন, তফসিল পিছিয়ে এই সময়ের মধ্যে তারা সরকারের সাথে ছোট পরিসরে আলোচনার মাধ্যমে তাদের নেত্রীর মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকার নিয়ে একটা সমাধান চান। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট তাদের দাবিতে কর্মসূচিও অব্যাহত রাখার কথা বলছে।তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, বিরোধী জোটের দাবি নিয়ে তাদের আর কিছু করার নেই।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ড: কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতাদের সাথে সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে সংলাপ করেছেন।

এদিকে সংলাপ নিয়ে আশা জাগলেও এখন সেই আশার মুকুল ঝরে যেতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি সংবাদ সম্মেলন করে এই বক্তব্য তুলে ধরেন।তিনি সংলাপে তাদের নতুন জোট ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধিদলে ছিলেন না।

বিএনপি নেতাদের যারা সংলাপে গিয়েছিলেন, গণভবনে সংলাপ শেষে তাদের চোখে মুখে অসন্তুষ্টির ছাপ লক্ষ্য করা যায়। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, তারা সন্তুষ্ট হতে পারেননি।আবার ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড: কামাল হোসেন বলেছিলেন, ভাল আলোচনা হয়েছে।এদিকে আরও কয়েকটি দলের সাথে সংলাপ শেষে ৮ই নভেম্বরের পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

এখন এই তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে দেয়ার দাবিকে সামনে আনতে চায় বিএনপি।মি: আলমগীর বলেছেন, তারা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকেই তফসিল পিছিয়ে তাদের মুল দাবিগুলোতে সমাধান চান। এই বিষয়টি নিয়ে সরকার কোন আলোচনার করবে বলে মনে হয় না।

বিএনপি তাদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ৬ নভেম্বর ঢাকায় জনসভা করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথাও বলেছে।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংলাপে সমাধান না হলেও এখনও তারা সরকারের কোর্টে বল দিয়েছেন, সরকারকেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে হবে।বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, সরকার এবং বিরোধী জোট, দুই পক্ষেরই রাজনৈতিক কারণে এই সংলাপ প্রয়োজন ছিল। নির্বাচনের আগে দু’পক্ষই দেখাতে চেয়েছেন যে, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চেয়েছিলেন।তবে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে লোকদেখানো এই সংলাপ হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেকেই বলেছেন, বিএনপি সংলাপে যোগ দিয়ে সংবিধানের ভিতরে থেকে কোনো প্রস্তাব দিতে পারেনি।ফলে তাদের আর কিছু করার নেই। দলটির সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এখন নির্বাচনের দিকেই তারা এগুবেন।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অবশ্য আজ বলেছেন যে, বিএনপিসহ ঐক্যজোট চাইলে আরও আলোচনা হতে পারে।কিন্তু দুই পক্ষের ছাড় দেয়ার মানসিকতার ব্যাপারে বিশ্লেষকদের সন্দেহ রয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা অনুমান করব আপনি এর সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি যদি চান তবে আপনি অপট-আউট করতে পারেন। স্বীকারআরও পড়ুন