নিউজপ্রেসবিডি । NewsPressBD
সত্য, সম্পূর্ণ সত্য এবং কেবলমাত্র সত্য

সংলাপঃ একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

সংলাপ যেনো শেষ না হয়

সংলাপ যেনো শেষ না হয়। রাজনীতিতে যেমন শেষ কথা বলে কিছু নেই। সংলাপেও শেষ সংলাপ বলে যেন কিছু না থাকে। রাজনীতি যেমন একটি নিরবিচ্ছিন্ন বিষয়, সংলাপও যেনো নিরন্তর আলোচনার বিষয় হয়। এটিই সকলের প্রত্যাশা হওয়া দরকার। আশার কথা সংলাপে বসতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মত হয়েছেন এবং এই সংলাপে বসতে রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আগামী ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে এই সংলাপ আহ্বান করা হয়েছে। ইতিপূর্বে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এক চিঠিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানান। ওই প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী রাজি হন এবং মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আবদুস সোবহান গোলাপ ড. কামাল হোসেনের বাসায় গিয়ে তার হাতে আমন্ত্রণের চিঠি পৌঁছে দেন।

ওই চিঠিতে ‘সংবিধানসম্মত সকল বিষয়ে’ আলোচনার জন্য ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।চিঠি হস্তান্তরের পর আবদুস সোবহান গোলাপ সাংবাদিকদের বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণপত্র ড. কামাল হোসেনের কাছে দিয়েছি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা উনাদেরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্যাডে শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে কামাল হোসেনকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছে, সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন। আপনার ২৮ অক্টোবর ২০১৮ তারিখের পত্রের জন্য ধন্যবাদ। অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সংবিধানসম্মত সকল বিষয়ে আলোচনার জন্য আমার দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত। তাই আলোচনার জন্য আপনি যে সময় চেয়েছেন, সে পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখ সন্ধ্যা ৭টায় আপনাকে আমি গণভবনে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

- বিজ্ঞাপন -

কামাল হোসেনের দল গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু সাংবাদিকদের বলেন, ওইদিন ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গণভবনে যাবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সকল দলের প্রতিনিধি সেখানে থাকবেন। আজ মঙ্গলবারই নামের তালিকা তৈরি করে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, আমরা শুধু ৭ দফা নয়, অন্যান্য বিষয় ও বর্তমান যে বিষয়গুলো আছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে দেশে একটা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাব।মন্টু বলেন, ‘এজন্যে উনি যদি কোন সহযোগিতা আমাদের কাছে চান, অবশ্যই ড. কামাল হোসেন এব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলতে পারবেন। যেহেতু উনি সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম, উনি এ ব্যাপারে ব্যাখ্যাটা দিতে পারবেন। বিষয়টি আমরা উনার উপর ছেড়ে দিচ্ছি, উনি সংলাপের নেতৃত্ব দেবেন’।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে চিঠি দেন কামাল হোসেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি হওয়ার কথা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার দরজা কারো জন্য বন্ধ হয় নাই, বন্ধ থাকে না। এর মধ্য দিয়ে আপনারা বুঝতে পারছেন যে আমরা আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবে সম্মত। আমরা সবাই এ ব্যাপারে নেত্রীর সঙ্গে একমত যে আমরা ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসব’।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি ২০১৪ সালের ওই নির্বাচনের পর থেকেই সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আসছিল। কিন্তু এর কোনো প্রয়োজন অনুভব করছিল না আওয়ামী লীগ।

এদিকে আওয়ামী লীগকে নত করতে ব্যর্থ বিএনপি গত ১৩ অক্টোবর গণফোরাম সভাপতি কামালের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে ৭ দফা দাবি তুলে তা নিয়ে নতুন করে সংলাপের আহ্বান জানায়।রবিবার সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে লেখা কামাল হোসেনের চিঠি পৌঁছে দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ওই চিঠি পাওয়ার পর সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর শেখ হাসিনা তা নিয়ে আলোচনা করেন বলে ওবায়দুল কাদের জানান। তিনি বলেন, ‘আজকে মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর নেত্রী আমাদের নিয়ে অনির্ধারিত একটি বৈঠক করেন। উপস্থিত দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সবার মতামত জানতে চান। অনির্ধারিত এ আলোচনায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দরজা কারো জন্য বন্ধ নয়’।

আওয়ামী লীগের পক্ষে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা এই সংলাপে নেতৃত্ব দেবেন এবং আলোচনার সময়, স্থান ও অন্যান্য বিষয় ‘শিগগিরই’ জানিয়ে দেওয়ার কথাও সংবাদ সম্মেলনে জানান কাদের। এরপর মঙ্গলবার সাত সকালে কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া হয় ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই একটি সংলাপ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। উচ্চতার আসনে আসীন হতে পারে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার যে উন্নয়নের আবহ সৃষ্টি করেছে তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্যে তা হতে পারে মাইলফলক। আমাদের প্রত্যাশা এই সংলাপ সফল হবে এবং বাংলাদেশের রাজনীতি একটি দিকনির্দেশনা লাভে সমর্থ হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা অনুমান করব আপনি এর সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি যদি চান তবে আপনি অপট-আউট করতে পারেন। স্বীকারআরও পড়ুন