নিউজপ্রেসবিডি । NewsPressBD
সত্য, সম্পূর্ণ সত্য এবং কেবলমাত্র সত্য

সাইবার যুদ্ধ নিয়ে এইচ টি ইমামের যথাসময় যথাযথ উপলব্ধি

২১

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সাইবার যুদ্ধের ব্যাপারে দেরীতে হলেও আওয়ামী লীগের উপলব্ধি এসেছে। আওয়ামী লীগ সত্যিই উপলব্ধি করতে পেরেছে যে এই নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পরে। যা হারজিতের জন্যে এক নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। সামাজিক মাধ্যমের মানুষ আওয়ামী লীগকে কতটুকু পজিটিভ শক্তি মনে করে তার ওপর নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ তাদের সমর্থন লাভে সমর্থ হবে কিনা। তবে একথা সত্য ঘটনা ঘটার আগেই এবার এই উপলব্ধি আওয়ামী লীগকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যথাসময়ে যথাচিন্তা আওয়ামী লীগ করতে পেরেছে বলেই ধারনা আওয়ামী লীগ প্রিয়দের। এবার দেখা যাক কেমন যুদ্ধ সেটি। এই যুদ্ধের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সদস্য, নেতা-কর্মীরা কে কতটুকু প্রস্তুত। মানুষই বা কী ভাবছে এই যুদ্ধকে নিয়ে। কার রণ প্রস্তুতি কেমন!

আসন্ন নির্বচনকে ঘিরে একটি স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে অন্তত বছর-খানেক আগে থেকেই। নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে কিনা অথবা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ছোট আকারের সরকার এই নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে কিনা বিষয়টি এখনো পরিষ্কার না হলেও ধরণ করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে বলেই সকলের ধারণা বা বিশ্বাস। এই ডিজিটাল যুগে মানুষ কিন্তু সংবাদপত্র বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেনসিটিভ সংবাদগুলো জেনে ফেলে এবং এব্যাপারে তাদের মতামত ও প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে প্রতিনিয়তই। যা দেখে আবার অন্যরাও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। যে কারণে এইচ টি ইমাম ঠিক সময়েই আওয়ামী লীগের পক্ষে তার উপলব্ধির কথা আওয়ামী লীগ নেতা- কর্মীদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। এব্যাপারে তিনি কোন রাখঢাক করেন নাই। যা সত্য তা তিনি প্রথমে নিজে উপলব্ধি করেছেন এবং তার উপলব্ধি আওয়ামী লীগ নেতা- কর্মীদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। মনে হচ্ছে এইচ টি ইমাম যেনো জাতীয় এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেন। অবশ্য তিনি এব্যাপারে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্যে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ধারণা আরও আগেই আওয়ামী লীগের মধ্যে এই উপলব্ধি আসা উচিৎ ছিল। আওয়ামী লীগের আরও উচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেই এব্যাপারে উপলব্ধিটা আসাই বাঞ্ছনীয় ছিল।মনে হচ্ছে তারা ফেইল করেছেন। বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেননি। যা হোক এখন এইচ টি ইমামের উপলব্ধিকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে প্রস্তুত করবেন এমনি ধারণা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের।

- বিজ্ঞাপন -

শনিবার যশোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সাইবার যুদ্ধের আশংকার কথা তুলে ধরেন। তার মতে বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ‘সাইবার যুদ্ধের’ সম্ভাবনা এবং নির্বাচনী ইস্যুতে ফেসবুক হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম। বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এব্যাপারে শনিবার বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনেও ইন্টারনেট-ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি বড় প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি নিয়ে বেশ মনোযোগীও হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দলটির কর্মী-সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধিকতর সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মি: ইমাম। মি: ইমামকে উদ্ধৃত করে একটি দৈনিক লিখেছে, তারা যদি মিথ্যা একটি লেখে, আপনারা দশটি জবাব লিখুন। আপনারা কেন পিছিয়ে থাকবেন? আগামী নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংঘাতিক লড়াই হবে। আপনাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

বিবিসি’র সংবাদে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। তার প্রমাণ মিলেছে গত বেশকয়েক বছর যাবত ইন্টারনেট প্রভৃতির উন্নয়নে তারা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন । ক্ষমতাসীন দল মনে করে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফেসবুকে অনেক সক্রিয় এবং সরকারবিরোধী নানা ‘অপপ্রচারে’ লিপ্ত। কিন্তু এর বিপরীতে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা ফেসবুকে ততটা সোচ্চার নয় বলেই দলের শীর্ষ পর্যায়ে ধারণা রয়েছে। অবশ্য ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত যুব সমাজ এব্যাপারে বেশ সোচ্চার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইন্টারনেট, কম্পিউটার ওয়ার্ল্ড এর যে উন্নয়ন ঘটেছে অতীতের কোন সরকার তা চিন্তা করতে পারেনি।এতে ধারণা করা হচ্ছে ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগ সরকারের সুবাদেই যুব সমাজ তথ্যে অনেক বেশী সমৃদ্ধ হতে পেরেছে। যে কারণে তারা আশাবাদী আসন্ন নির্বাচনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতা আনার ব্যাপারে।

এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাইবার ব্রিগেড গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলছে, এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গুজব ছড়ানো প্রতিহত’ করা। এছাড়া আগামী নির্বাচনের জন্য ‘সরকারের উন্নয়ন’ প্রচার করা।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘সাইবার যুদ্ধ’ প্রথমবারের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করে ২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময়। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা যেভাবে অনলাইন ব্লগ এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন তেমনি ফেসবুকসহ ইন্টারনেট-ভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা। বাঁশের কেল্লা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে বিচারের সমালোচনা করা হয় ক্রমাগত। বাঁশের কেল্লা’ ফেসবুক পেজটিকে জামায়াতে ইসলামীর মদদ-পুষ্ট বলে মনে করা হয়। এর পর থেকে ফেসবুকে নানা ধরণের গ্রুপ তৈরি করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ নজরুল মনে করেন, আসছে নির্বাচনে অনলাইন-বিশেষ করে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যেই সারা পৃথিবীতে নির্বাচনী প্রচারণা এবং খবর আদান-প্রদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিসরে অনলাইনে প্রচারণা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার দুটো কারণ রয়েছে বলে মনে করেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল। প্রথম কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমের একাংশ বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। আরেকটি অংশ সরকারের বিভিন্ন কালাকানুনের ভয়ে স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করতে পারছে না। এ দুটো পরিস্থিতির কারণে যে শূন্যতা দেখা দিয়েছে সেটি পূরণের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে তিনি মনে করেন।

অধ্যাপক নজরুলের মতে বাংলাদেশে বর্তমানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার জায়গা চরমভাবে সংকুচিত হওয়ার কারণে বিকল্প মাধ্যম হিসেবে মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক বিএম মইনুল হোসেন বলেন, এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেসবুকে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারণা জোরেশোরে শুরু করেছেন। কোন পোস্টে কয়টি লাইক পড়ছে, কতগুলো শেয়ার হচ্ছে-এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে একটি ইমপ্যাক্ট (প্রভাব) তৈরি হয়, ” বলছিলেন মি: হোসেন। তিনি বলেন, ফেসবুক এমন একটি মাধ্যম যার সাহায্যে কম সময়ে অনেক বেশী মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয়া যায়। মি: হোসেনের বলেন, সাইবার যুদ্ধ বলতে তো আর প্রথাগত যুদ্ধকে বোঝানো হয় না। ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার-প্রচারণা করা এবং প্রতিপক্ষের ভুল চিহ্নিত করাই হবে এর উদ্দেশ্য। সাম্প্রতিক ‘কোটা আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক চাই’ এই দুটি আন্দোলনে ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই দুটি ঘটনায় নিশ্চয়ই অনেকেরই চোখ- কান খুলে দিয়েছে। অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা জিনিস বেশী আলোচিত হয়- মূল গণমাধ্যমও তা দ্বারা প্রভাবিত হয়।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা অনুমান করব আপনি এর সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি যদি চান তবে আপনি অপট-আউট করতে পারেন। স্বীকারআরও পড়ুন