নিউজপ্রেসবিডি । NewsPressBD
সত্য, সম্পূর্ণ সত্য এবং কেবলমাত্র সত্য

বিদায় তারামন বিবি

মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবি চলে গেলেন। আজ সকালে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এই ত্যাগী মুক্তিযোদ্ধা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিজয় মাসের শুরুতেই একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি’র মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীসহ তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শনিবার সকালে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুরের নিজের বাড়িতে এই মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয় বলে তার ছেলে আবু তাহের জানান।

পারিবারিক সূত্রে বলাহয়, তারামন বিবি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট আর ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। গত মাসেও তাকে ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আবু তাহের জানান, শুক্রবার রাতে তার মায়ের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে। রাত ১টা ২৭মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।

- বিজ্ঞাপন -

এব্যাপারে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, শনিবার দুপুরে রাজিবপুর উপজেলার কাচারীপাড়া তালতলা কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে তারামন বিবিকে।এর আগে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

কুড়িগ্রামের শংকর মাধবপুরে ১১ নম্বর সেক্টরে সেক্টর কমান্ডার আবু তাহেরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তারামন বিবি। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকিস্তানিদের খবর সংগ্রহের পাশাপাশি অস্ত্র হাতে সম্মুখ যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন এই নারী মুক্তিযোদ্ধা। মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধা কিশোরী তারামন বিবিকে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে নিয়ে গিয়েছিলেন রান্নার কাজে সহযোগিতার জন্য। সেখানে তিনি অস্ত্র চালনা শিক্ষা নেন ।একদিন দুপুরে খাওয়ার সময় পাকিস্তানি বাহিনী একটি গানবোট নিয়ে সেখানে হানা দেয়। তারামন বিবিও সেদিন সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন এবং শত্রুদের পরাস্ত করেন। এরপর বেশ কয়েকটি যুদ্ধে পুরুষ সহযোদ্ধাদের পাশাপাশি অস্ত্র হাতে লড়াই করেন এই বীর নারী। এই বীর নারীর অকুতোভয় সাহসের জন্যে আমরা গর্বিত এবং শ্রদ্ধাশীল।

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সালে তারামন বিবিকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করা হয়। কিন্তু ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাকে খুঁজে বের করেন- বলা যায় আবিষ্কার করেন। নারী সংগঠনগুলো তাকে ঢাকায় নিয়ে আসে। ওই বছর ১৯ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে তারামন বিবির হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।তারামন বিবির স্বামীর নাম আবদুল মজিদ। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে ।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা অনুমান করব আপনি এর সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি যদি চান তবে আপনি অপট-আউট করতে পারেন। স্বীকারআরও পড়ুন