নিউজপ্রেসবিডি । NewsPressBD
সত্য, সম্পূর্ণ সত্য এবং কেবলমাত্র সত্য

লেগুনা বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে ঢাকাবাসী

২১

আকস্মিকভাবে হিউম্যান হলার তথা লেগুনা বন্ধ করে দেওয়ায় বুধবার ঢাকা মহানগরীর মানুষ দারুণ দুর্ভোগে পড়েন। শত শত মানুষ বিভিন্ন মোড় এবং স্টপেজগুলোয় আটকে থাকেন।বিভিন্ন রুটে বুধবার সারাদিন লেগুনা চলতে দেখা যায়নি। ফার্মগেট থেকে সীমিত সংখ্যক লেগুনা সীমিত গন্তব্য চলতে দেখা যায়। মহানগরী ঢাকায় ঈদুল আজহার ছুটির পর এখনো যানবাহন চলাচলের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি। বাস, মিনিবাস ও অন্যান্য যানবাহনের সংখ্যাও কম। যানবাহন না থাকায় মানুষ গন্তব্যে যেতে হিমশিম খায়। মহিলা এবং শিশুদের জন্যে বেশী কষ্টের কারণ হয়।

বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন রুটে বাস, মিনিবাস ও সংশ্লিষ্ট যানবাহনের সংখ্যাও ছিল কম। বাহন না থাকায় দুর্ভোগে পড়েন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ। মানুষ এমন কষ্ট দেখতে চয় না । তারা অবিলম্বে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বিভিন্ন অলিগলি এবং মান্ডার মতো একেবারে প্রত্যন্ত শহরতলী থেকে ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল এবং মহাখালী, আসতে লেগুনা অন্যতম বাহন।

- বিজ্ঞাপন -

ঢাকার পুলিশ কমিশনার মোঃ. আসাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের জানান, মহানগরীতে হিউম্যান হলার চলাচল বন্ধ ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ফার্মগেট-জিগাতলা রুটে কোনো লেগুনা চলেনি।

ফার্মগেট থেকে মোহাম্মদপুর, মিরপুরগামী লেগুনাগুলোও চলেনি গতকাল। মোহাম্মদপুর থেকে গুলশান-বাড্ডা কিংবা গাবতলি থেকে মহাখালীগামী লেগুনাগুলো দেখা যায়নি সড়কে। গুলিস্তান থেকে পুরান ঢাকায় লেগুনা চললেও সংখ্যায় ছিল খুবই কম। ফলে মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। অবশ্য মুগদা থেকে মতিঝিল এবং হাজারীবাগ থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সীমিত সংখ্যক লেগুনা চলাচল করেছে।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়িতে রাজধানীতে বাসের সংখ্যাও কমে যায়। এখনো ওই অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। এই অবস্থায় লেগুনা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পথে মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। বিকল্প ব্যবস্থা না প্রায় সকল লেগুনা বা হিউম্যান হলার হলার বন্ধ করে দেওয়ার এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ লেগুনা বন্ধ থাকায় তারা অতিরিক্ত ব্যয়ের মধ্যে পড়েছেন।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা শহরে কোনো লেগুনা বা হিউম্যান হলার চলার কথা নয়। ঢাকা মহানগরীতে কোন ধরনের লেগুনা চলবে না। হাজারীবাগ থেকে গুলিস্তানে চলাচলকারী লেগুনার একজন চালক বলেন, রুট পারমিট নিয়েই তারা এই হোলার চালিয়ে আসছেন। বিকল্প ব্যবস্থা না করে এবং হোলার বন্ধের প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ না দিয়ে আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় মানুষর জন্যে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

হিউম্যান হলারগুলোর ঢাকায় চলাচলের অনুমতি নেই- ডিএমপি কমিশনারের এমন বক্তব্য ঠিক নয় বলে দাবি করেছেন হাজারীবাগের ট্যানারি মোড়-নীলক্ষেত রুটের নিলয় বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এগুলোর পারমিশন তো সরকারই দিয়েছে, বিআরটিএ রুট পারমিটও দিয়েছে। হঠাৎ কি চিন্তা করে এই বাহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তা তো বুঝতে পারছি না। তিনি সময় নিয়ে বন্ধ করে দেয়ার পরামর্শ দেন। এই বাহন চলাচলে একটি নীতিমালাও করা যেতে পারে। তিনি জানান, চলতি বছর পর্যন্ত ঢাকায় ৪ হাজার ৪৬৪টি হিউম্যান হলার চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে মেট্রো আরটিসি। ১৫৯টি রুটে এসব হিউম্যান হলার চলছে। হিউম্যান হলারের নিবন্ধন নিতে হয় বিআরটিএ থেকে। বিআরটিএর হিসাবে ঢাকায় হিউম্যান হলার নিবন্ধন নিয়েছে ৫ হাজার ১৫৬টি। হিউম্যান হলার রাজধানীবাসীর কাছে পরিচিত চীনের তৈরি ‘লেগুনা’ ব্র্যান্ডের নামে। যদিও টাটা, অশোক লিল্যান্ড, মাহেন্দ্রসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হিউম্যান হলারও আছে বিভিন্ন রুটে। মহাখালী থেকে শ্যামলী বা গাবতলি যাতায়াতকারী ছাত্রছাত্রীরা হিউম্যান হলার না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েন। হিউম্যান হলারে খরচও প্রায় অর্ধেক।

খোঁজ নিয় জানা গেছে গুলিস্তান থেকে গোড়ান, বাসাবো মাদারটেক, মাণ্ডা, সিপাহীবাগ, খিলগাঁও, গুলিস্তান থেকে হাজারীবাগ, লালবাগ, চকবাজার; কামরাঙ্গীরচরের ঝাউচর থেকে নিউমার্কেট, ফার্মগেট পর্যন্ত, আঁটি বাজার থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত লোকজনের যাতায়াতের মাধ্যম হিউম্যান হলার। মিরপুরের কালসি রোড থেকে বিভিন্ন ব্লকে, ১০ নম্বর সেকশন থেকে বিভিন্ন

ব্লকে, গাবতলি থেকে মাজার রোড, মিরপুর ১৪ নম্বর থেকে ইসিবি চত্বর মাটিকাটা হয়ে বিভিন্ন এলাকায় হিউম্যান চলাচল করে। গুলিস্তান থেকে যাত্রাবাড়ী, যাত্রাবাড়ী থেকে জুরাইন, শ্যামপুর, পোস্তগোলা; যাত্রাবাড়ী থেকে ডেমরার বিভিন্ন রুটেও হিউম্যান হলার চলাচল করে থাকে। ফার্মগেট থেকে মোহাম্মদপুর, জিগাতলা, হাজারীবাগ, মিরপুর, নিউমার্কেট রুট; ট্যানারি মোড় থেকে নিউ মার্কেট, মিরপুর-১০ মিরপুর ১ নম্বর শ্যামলী হয়ে জিগাতলা; আঁটিবাজার থেকে মোহাম্মদপুর হয়ে নীলক্ষেত পর্যন্তও চলে হিউমেন হলার। রামপুরা থেকে স্টাফ কোয়ার্টার এবং নন্দীপাড়া পর্যন্তও বেশকিছু হিউম্যান হলার চলাচল করে। উত্তরার হাউজবিল্ডিং, আজমপুর থেকে দক্ষিণখান-উত্তরখান, জসিমউদ্দিন থেকে বাউনিয়াসহ বিভিন্ন রুটে হিউম্যান হলারে যাতায়াত করে মানুষ।

ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন কম বয়সী চালকদের বেপরোয়া চালানো এবং ফিটনেসবিহীন হিউম্যান হলারের কারণে দুর্ঘটনা ঘটানোর অনেক অভিযোগ থাকায় হিউম্যান হলার বন্ধ করে দেয়ার আরেকটি কারণ বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা অনুমান করব আপনি এর সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি যদি চান তবে আপনি অপট-আউট করতে পারেন। স্বীকারআরও পড়ুন