নিউজপ্রেসবিডি । NewsPressBD
সত্য, সম্পূর্ণ সত্য এবং কেবলমাত্র সত্য

গোয়েন্দা তথ্যের আলোকে বঙ্গবন্ধুর ওপর বিরল গ্রন্থ প্রকাশ

৩২

পৃথিবীর কোন ঘটনাই গোপন থাকে না।চাপা দেয়া যায় না। ইতিহাসের প্রয়োজনেই সকল তথ্য বেরিয়ে আসে। গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রচনা করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর একটি মূল্যবান গ্রন্থ। আলোতে আসলো সেসব গোয়েন্দা নথির কথা। শেখ মুজিবের ওপর এ এক বিরল গ্রন্থ কোন সন্দেহ নেই। ছোট ছোট কাহিনী ও ঘটনাগুলো জন্ম দিয়েছে এক বিশাল কাহিনীর। তরুণ মুজিব থেকে বেরিয়ে এসেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তৎকালীন স্বৈরাচারী পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর সকল তথ্য চাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে বার বার। এমনকি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে খুন করার ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েও ইতিহাসকে আড়ালে নিতে পারেনি পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত সকল তথ্য গণ মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা।

পাকিস্তান সরকার বার বার চেষ্টা করেছে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার। কারণ একটাই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে নেয়া হয়েছে কারণ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা চান। বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছেন। কারণ তিনি স্বাধীনতা চান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবকে হত্যার মাধ্যমে শেখ মুজিবের নামনিশানা মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে।শেষ পর্যন্ত পারেনি। যে কারণে তিনি পরোক্ষভাবে ৭ মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মাটি খুড়ে যেমন প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ বের করে আনতে হয়, সেরকমই গোয়েন্দা তথ্য’র আলোকে এক বিশাল শেখ মুজিবকে জনসমক্ষে আনা হয়েছে। ঢেকে দেওয়া শেখ মুজিবকে উন্মুক্ত করা হয়েছে কাল একটি গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে। বইটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিক্রেট

- বিজ্ঞাপন -

ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দা নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’।
তরুণ শেখ মুজিবুর রহমান তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা বয়স ২৮ বছর বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তিনি সংগঠিত করছিলেন তৎকালিন পূর্বপাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের। ঠিক ওই সময়ই ঢাকায় পাকিস্তান পুলিশের ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে খোলা হয় একটি ফাইল তা ১৯৪৮ সালের কথা। পরের ২৩ বছরের আন্দোলনের মধ্য দিয়শেখ মুজিব হয়ে উঠেন বাংলার অবি সংবাদিত নেতা হিসাবে। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের স্বধীনতা আন্দোলন এগিয়ে যায়। বেড়ে যায় শেখ মুজিবুর রহমনের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর সেইসব গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের আলোকে সঙ্কলন প্রকাশিত হচ্ছে বই আকারে। বইটির শিরেনাম দেওয়া হয়েছে – ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দা নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার গণভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১৪ খণ্ডের সঙ্কলন গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করেন। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সঙ্কলনকে তিনি বর্ণনা করেন ‘অমূল্য তথ্যভাণ্ডার’ হিসেবে। আসলেই অমূল্য তথ্যভান্ডার কোন সন্দেহ নেই। যা এক বিরল গ্রন্থ।

বইটি প্রকশ করেছে হাক্কানী পাবলিশার্স এই বইয়ের প্রথম খণ্ডে ভাষা আন্দোলনের সূচনা, জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন, আওয়ামী লীগের জন্ম, শেখ মুজিবুর রহমানের চিঠিপত্র, বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ, বক্তব্য-বিবৃতি, গ্রেপ্তার, কারাবরণ, কারাগারে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন ও নেতাকর্মীদের সাক্ষাতের বিষয়গুলো উঠে এসেছে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের নথিতে

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান লাভ করে বাংলাদেশ। যা আজ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে চলমান। ।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইংরেজি ভাষায় পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের লেখা গোপন প্রতিবেদনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) রেকর্ড রুমে পড়ে ছিলবর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী এসবি প্রধানের দায়িত্বে থাকার সময় প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহে সেসব নথি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ৬০৬-৪৮ ফাইল নম্বর দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে যেসব ক্লাসিফায়েড প্রতিবেদন সেখানে ছিল, সেগুলোর পাঠোদ্ধার ও সঙ্কলিত করার ব্যবস্থা করেন তিনি।‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দা নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধাদের উদ্দেশে। ৫৮২ পৃষ্ঠার প্রথম খণ্ডের দাম রাখা হয়েছে ৯০০ টাকা। একই নকশায় প্রতিটি খণ্ডের প্রচ্ছদ করেছেন সমর মজুমদার।

শেখ হাসিনা মনে করেন ‘কয়লা খনি খুড়তে যেয়ে পাওয়া গেছে হীরার খনি’ তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যেসব প্রতিবেদন পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠাত, স্বাভাবিকভাবেই তার সব হত তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সেইসব ‘বৈরী প্রতিবেদন’ কেন আওয়ামী লীগ সরকার প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে, প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তার ব্যাখ্যা দেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, এসব প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তা ‘অমূল্য’। শেখ হাসিনা বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বলেন, কয়লা খনি খুড়ে হীরার খনি পাওয়া যায়। আমার মনে হয়েছে, ঠিক সেই ভাবেই যেন আমরা হীরার খনি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে ৭১ পর্যন্ত জাতির পিতার প্রতিটি কর্মকাণ্ড ও গতিবিধির অনেক তথ্য এখানে উঠে এসেছে। সবই তার বিরুদ্ধের রিপোর্ট। আর এই রিপোর্টের মধ্যে থেকেই কিন্তু আমরা সব থেকে মূল্যবান তথ্য আবিষ্কার করতে পারব।

মাতৃভাষার আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে কারও কারও প্রশ্ন তোলার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন কথা বলা হয়েছে- ‘তিনি তো জেলে ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে আবার কী করলেন?’ এই যে মানুষের একটা বৈরী চিন্তা ভাবনা.. আমি আশা করি, এই ডকুমেন্টগুলো পেলে বাংলাদেশের জনগণ সত্যটা আবিষ্কার করতে পারবেন। বাকি ১৩টি খণ্ড খুব দ্রুতই প্রকাশ করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রকাশনার মধ্যে দিয়েই বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাসের অনেক ঘটনার ‘আসল সত্য’ জানতে পারবে বলে তিনি আশা করছেন। ৪৬টি ফাইলের ৪০ হাজারের মত পৃষ্ঠা থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর পাঠোদ্ধার করে সঙ্কলিত করার কাজটি কতটা কঠিন ছিল, সে কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী। ২০০৯ সালে এসবির দায়িত্বে আসার পর তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চের যে ২২ কর্মকর্তাকে নিয়ে কঠিন এই কাজটি শেষ করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বইয়ের মুখবন্ধে তিনি লিখেছেন, সরকারি এই ডকুমেন্ট যেভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল সেভাবেই রাখা হয়েছে। অনেক সময় বক্তৃতাগুলোর নোট নিতে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভুল করেছেন, আবার বৃষ্টিতে মুছে গেছে। দীর্ঘ দিনের পুরাতন হওয়ার কারণে কিছু দলিলের অংশ বিশেষ নষ্ট হয়েছে। প্রতিটি প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু লিখিত আকারে দেওয়ার পাশাপাশিষ একটি অনুলিপিও দেওয়া হয়েছে এই বইটিতে। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্পেশাল ব্রাঞ্চের দায়িত্বে থাকা ডিআইজি সামসুদ্দিন খান ১৯৯৭ সালে প্রথম এই প্রতিবেদনগুলো সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিলেন। বইয়ের মুখবন্ধে তাকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর চীন ভ্রমণের ওপর শিগগিরই একটি বই প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ১৯৬০ সালে জেলখানা থেকে বঙ্গবন্ধুর যে খাতাটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, সেটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার ওপর ভিত্তি করে আরেকটি বই প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গ্রাফিক নভেল প্রকাশ করায় বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকেরও প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল ট্রাস্ট আয়োজিত এ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এবং হাক্কানী পাবলিশার্সের প্রকাশক গোলাম মোস্তফা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান ধন্যবাদ জানান বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহেনা ও তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর কয়েকজন নিকটাত্মীয়, স্পিকার শিরীন শারিমন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকায় বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বর্নিকাট, ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিবিদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি অতিথি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রা উপস্থিথ ছিলেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা অনুমান করব আপনি এর সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি যদি চান তবে আপনি অপট-আউট করতে পারেন। স্বীকারআরও পড়ুন