নিউজপ্রেসবিডি । NewsPressBD
সত্য, সম্পূর্ণ সত্য এবং কেবলমাত্র সত্য

সৌদি সাংবাদিক খাসোগজি হত্যার রহস্যের জট খুলছে

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজি নিখোঁজ রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। এই নিখোঁজ রহস্যের ছাপ পড়েছে সৌদি সম্মেলনে।

এদিকে সৌদি আরব খাসোগজি হত্যার কথ স্বীকার করল। ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেট অফিসেই খাসোগজি মৃত্যু হওয়ার কথা স্বীকার করে নিল সৌদি আরব।

- বিজ্ঞাপন -

বিবিসি বাংলা নিউজের এক খবরে বলা হয়, সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজির রহস্যজনক অন্তর্ধানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা এখন রিয়াদে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য একটি বিশাল বিনিয়োগ সম্মেলন বর্জন করতে শুরু করেছেন। ব্রিটেনের বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়াম ফক্স এবং ফরাসি ও ডাচ অর্থমন্ত্রীরা ঘোষণা করেছেন, তারা সৌদির ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন না।এই বিনিয়োগ সম্মেলনকে ‘ডাভোস ইন দ্য ডেজার্ট’- মরুভূমির ডাভোস উন্নয়ন সম্মেলন বলে অভিহিত করা হয়। একে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির একটি শোকেস ইভেন্ট বলে মনে করা হয় ।

এদিকে নিখোঁজ সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজির সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তুরস্কের কাছ থেকে তথ্য প্রমাণ চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেট, যেখানে ঢোকার পর নিখোঁজ হয়েছেন জামাল খাসোগজি। তুরস্কের গোয়েন্দাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের অডিও রেকর্ডিং এর সূত্রে তুরস্কের মিডিয়াগুলো দিনের পর দিন খবর প্রকাশ চলেছে যে, মি. খাসোগজিকে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেটের মধ্যে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন সেই প্রমাণ চাইছেন এবং একইসাথে মন্তব্য করেছেন কোন অডিও রেকর্ডিং রয়েছে কিনা, তা তার জানা নেই। জামাল খাসোগজিকে যে হত্যা করা হয়েছে, এ নিয়ে তুরস্কের সরকারের মনে কোন সন্দেহ নেই। এব্যাপারে বলা হচ্ছে, সৌদি সরকারেরই পাঠানো একটি ঘাতক দল ইস্তাম্বুলে গিয়ে তাকে হত্যা করেছে।এমনকি যে সংবাদপত্রে মি. খাসোগজি নিয়মিত কলাম লিখতেন, সেই ওয়াশিংটন পোস্টও তার একটি কলাম বৃহস্পতিবার প্রকাশ করে বলেছে, এটাই জামাল খাসোগজির শেষ লেখা।

সৌদি আরব বলছে, তারা এসব কিছুই জানেনা। মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে রিয়াদে পাঠিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নির্ভরযোগ্য মিডিয়ার খবরে জানা গেছে, তার কাছেও সৌদি বাদশাহ সালমান এবং তার ক্ষমতাধর ছেলে তাদের পুরনো অবস্থানই তুলে ধরেছেন যে মি. খাসোগজির সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। মি. পম্পেও রিয়াদ থেকে বুধবার আঙ্কারায় গিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সাথেও কথা বলেছেন।

মি. পম্পেও আসছেন জেনেই হয়তো বুধবারই তুরস্কের অনেকগুলো মিডিয়ায় মি খাসোগজিকে কীভাবে সৌদি কনসুলেটের মধ্যে নৃশংস হত্যা করা হয়েছে, তার বিস্তারিত বর্ণনাসহ রিপোর্ট ছাপা হয়েছে।অনেক পর্যবেক্ষক তাই বলছেন, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক টানাপড়েন আয়ত্তে রাখতে, জনমনে উদ্বেগ-ক্ষোভ কমাতে সৌদি আরব এবং তুরস্ককে নিয়ে যে চেষ্টা আমেরিকা করছে, তাতে তেমন কোন সুবিধা হচ্ছেনা। রিয়াদ এবং আঙ্কারা থেকে মি. পম্পেও তেমন কোন ইতিবাচক বার্তা নিয়ে যেতে পারেননি। আর সেই কারণেই হয়তো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন তুরস্কের কাছে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ চাইছেন। এব্যাপারে তুরস্কের সরকারপন্থী একটি সংবাদপত্র লিখেছে, তুরস্ক এই মুহূর্তে সেই প্রমাণ আমেরিকার হাতে তুলে দিতে চাইছে না।

সৌদি আরবের অ্যাটর্নি জেনারেলের বরাত দিয়ে শুক্রবার এক বিবৃতিতে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, কনসুলেটে ‘মারামারিতে’ জড়িয়ে পড়ার পর জামাল খাসোগজির মৃত্যু হয় বলে ‘প্রাথমিক তদন্তে’ দেখা গেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, এ ঘটনায় সৌদি গোয়েন্দা দপ্তরের উপ প্রধান আহমেদ আল-আসিরি এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সৌদ আল-খাতানিকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি ১৮ জনকে গ্রেপ্তারের কথা বলা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরবের ওই ব্যাখ্যা ‘হয়ত সঠিক’।তিনি ওই ঘটনাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বললেও সৌদি আরবকে বর্ণনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুত্বপূর্ণ মিত্র’ হিসেবে।সাংবাদিক জামাল খাসোগজির অন্তর্ধানের দুই সপ্তাহ পর সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে নেয়া হল।

সৌদি যুবরাজের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত খাসোগজি এক বছর আগে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান। তিনি ওয়াশিংটন পোস্টে কলাম লিখতেন।বিয়ে করার জন্য ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিতে গত ২ অক্টোবর তিনি ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটে যান। সেখান থেকে তিনি আর বেরিয়ে আসেননি।কনসুলেটের ভেতরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তুরস্কের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও সৌদি আরব তা ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে আসছিল।তুরস্কের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটে ঢোকার আগে খাসোগজি তার অ্যাপল ওয়াচের রেকর্ডিং চালু করেন এবং তার আইফোন রেখে যান তার বাগদত্তার কাছে।ভেতরে যা যা ঘটেছে, তার অডিও রেকর্ড আইক্লাউডে জমা হয়েছে এবং সেখানে তার ওপর নির্যাতন ও হত্যার প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করা হয় তুর্কি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে।বলা হচ্ছে, খাসোগজিকে হত্যা করার পর তার দেহ টুকরো টুকরো করে সরিয়ে ফেলা হয়। সৌদি আরব থেকে আসা ১৫ সদস্যের একটি দল ওই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। হত্যাকাণ্ডের পর তারা দ্রুত তুরস্ক ছেড়ে যান।তুর্কি সংবাদপত্রগুলোতে ওই ১৫ জনের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়, যাদের মধ্যে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর ফরেনসিক বিভাগের প্রধান এবং যুবরাজের বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিটের সদস্যও আছেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা অনুমান করব আপনি এর সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি যদি চান তবে আপনি অপট-আউট করতে পারেন। স্বীকারআরও পড়ুন