নিউজপ্রেসবিডি । NewsPressBD
সত্য, সম্পূর্ণ সত্য এবং কেবলমাত্র সত্য

জাল বাইবেল ধরা পড়লো ওয়াশিংটনে

বাইবেলের মতো ধর্মগ্রন্থের জাল পাণ্ডুলিপি হবে এ এক অভাবিত ব্যাপার। ধর্মবেত্তা এবং পণ্ডিতেরা জাল হওয়ার বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছেন না। ওয়াশিংটনের বাইবেল জাদুঘরে কিভাবে ধরা পড়লো জাল পাণ্ডুলিপি? বিবিসি নিউজ বাংলা এই খবরটি স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।

বিবিসি’র খবরে বলা হয়, ওয়াশিংটনের বাইবেল জাদুঘরে দীর্ঘ সময় ধরে জাল পাণ্ডুলিপি প্রদর্শিত হয়ে আসছিল। যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাদুঘরে হিব্রু বাইবেলের আদি পাণ্ডুলিপির ৫টি খণ্ড জাল প্রমাণিত হওয়ায় সেগুলো সরিয়ে নেয়া হয়। হিব্রু বাইবেলের পাণ্ডুলিপির আদি নিদর্শন ধরা হয় ডেড সি স্ক্রলকে।

- বিজ্ঞাপন -

এতদিন ধরে এর জাল খন্দগুলোই প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছিল ওয়াশিংটন ডিসির বাইবেল জাদুঘরে। শেষপর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর খণ্ডগুলো জাল প্রমাণিত হওয়ায় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সেগুলো সরিয়ে ফেলে।আদি হিব্রু বাইবেলের ১৬টি খণ্ড ছিল ওয়াশিংটনের বাইবেল জাদুঘরের কাছে। এর মধ্যে ৫টি খণ্ড পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল জার্মানিতে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলেছে, পরীক্ষার ফলাফলে পাণ্ডুলিপির আদি রূপের সাথে এগুলোর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করে ২০১৭ সালে বাইবেল জাদুঘরটি চালু করেন একজন খৃষ্টান এবং ধনকুবের স্টিভ গ্রিন।

হিব্রু বাইবেলের পাণ্ডুলিপির সন্ধান মিলেছিল যেভাবে

হিব্রু বাইবেলের প্রথম খণ্ডের খোঁজ মিলেছিল ১৯৪৭ সালে।তখন এটি পাওয়া গিয়েছিল ডেড সি’র উত্তর পশ্চিম তীর থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে কামরান নামের পাহাড়ি মরু এলাকার গুহা থেকে।

এক বেদুঈন বালক ভেড়া চড়াতে গিয়ে এই পাণ্ডুলিপিটি পায়। বেদুঈন বালকের পরিবার সেই পাণ্ডুলিপি পুরাকীর্তি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল।পরে ওই পাণ্ডুলিপি খৃষ্টান ধর্মযাজকের হাতে যায়।এব্যাপারে আমেরিকান স্কুল অব রিসার্চের একজন গবেষক ড: ট্রেভর পাণ্ডুলিপি দেখে এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেন।পরে এগুলোই অনেকে অর্থের লোভে জাল করে সম্পদশালী আমেরিকানদের কাছে বিক্রি করে দেয়।

স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি

ওয়াশিংটনের বাইবেল জাদুঘরে হিব্রু বাইবেলের যে ১৬টি পাণ্ডুলিপি ছিল, সেগুলোর মধ্যে ১৩টি খণ্ড পড়ার পর বাইবেলের পণ্ডিতরা এর বেশ কয়েকটি জাল বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন।পণ্ডিতরা এই খণ্ডগুলো পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দেন। তখন ৫টি খণ্ড জার্মানিতে পরীক্ষা করা হয়। ওই পরীক্ষায় ৫টি পাণ্ডুলিপি জাল বলে ধরা পড়ে। জাদুঘরটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফরি ক্লোহা বলেছেন, পরীক্ষার ফলাফল ভিন্ন হবে বলে তিনি আশা করেছিলেন।একইসাথে তিনি বলেছেন, ঘটনাটি তাদের জন্য শিক্ষনীয় হয়ে থাকবে।তিনি উল্লেখ করেন, বাইবেলের পাণ্ডুলিপির সত্যতা যাচাইয়ের ব্যাপারে তারা যে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং স্বচ্ছ্বতার ব্যাপারে তাদের যে প্রতিশ্রুতি আছে, সেটা মানুষ অনুধাবন করবে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে বাইবেল জাদুঘরটির মালিক স্টিভ গ্রিন এর আগেও এ ধরণের বিতর্কে জড়িয়েছেন। গত বছরই মিস্টার গ্রিনের কোম্পানি “হবি লবি”র বিরুদ্ধে ইরাক থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন চোরাচালানের অভিযোগ এসেছিল।শেষপর্যন্ত সেই অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ঐ কোম্পানিকে ৩০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে হয়।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা অনুমান করব আপনি এর সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি যদি চান তবে আপনি অপট-আউট করতে পারেন। স্বীকারআরও পড়ুন