নিউজপ্রেসবিডি । NewsPressBD
সত্য, সম্পূর্ণ সত্য এবং কেবলমাত্র সত্য

সম্পাদকের ভাষাঃ এ কেমন শ্রমিক আন্দোলন!

১১

এ কেমন শ্রমিক আন্দোলন! পরিবহন ধর্মঘট ডেকে পথচারীদের মুখে, দেহে মবিলকালি লেপন করে দেয়া হচ্ছে। পথচারীদের কী অপরাধ! এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে প্রতিটি পথচারীর মুখে। শ্রমিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার কথ সরকারের। পথচারী বা জনতার সাথে শ্রমিকদের কোন বিরোধ নেই। তাহলে জনগণ কেনো এই বিরোধের মুখোমুখি হবে। মানুষ কেনো বিড়ম্বনার সম্মুখীন হবে। তা হতে পারে না।

নব্বই এর গণআন্দোলনের আগে বা পরে আদমজীসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের সময় অনেক হরতাল, অবরোধ হয়েছে। কিন্তু অতীতে কখনো তো আন্দোলনকারীরা জনতার ওপর চড়াও হয়নি। তারা জনগণের সহযোগিতা নিয়ে আন্দোলনকে সফলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন।কিন্তু জনতার মুখে চুনকালি মেখে দেয়ার মতো জঘন্য কোন ঘটনার সূত্রপাত করা হয়নি। শ্রমিক নেতা সাদুর নেতৃত্বে আদমজীসহ ঢাকায় বিভিন্ন আন্দোলন হয়েছে। আদমজী অবরোধ করে শ্রমিকরা বসে পড়তেন এবং রাস্তায় অবস্থান গ্রহণ করতেন। কিন্তু জনতার ওপর কেন আঘাত বা অপমানের বোঝা চাপানোর ঘটনা ছিল না। শ্রমিক আন্দোলন অবশ্যই মানুষের স্বার্থে এবং শ্রমিকদের স্বার্থে – একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা । পরিবহন শ্রমিকদের ঘোরতর কোন অপরাধের শাস্তি দেয়া যাবে না, মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান করে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইন বাতিল করতে হবে এমন দাবিকে অযৗক্তিক মনে করেন দেশের মানুষ। ইদানীং সড়ক বড়ই অনিরাপদ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত মানুষ মরছে সড়ক দুর্ঘটনায়। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই সড়কে। এই অবস্থায় ছাত্রদের নেতৃত্বে নিরাপদ সড়ক চাই দাবিতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। এরই এক পর্যায়ে জাতীয় সংসদে সড়ক আইন পাস করা হয়। এখন ওই আইন বাতিলের দাবিতে শ্রমিকরা মাঠে নেমেছেন এবং তারা পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। একারণে সারাদেশের মানুষ পরিবহন শ্রমিকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। পরিবহনের অভাবে মানুষ একস্থান থেকে আরেক স্থানে যেত পারছেন না। আটকা পড়েছে হাজার হাজার পথচারী। মানুষের জন্যে দুর্ভোগ সৃষ্ট করা কখনই কান আন্দোলনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য হতে পারে না। এব্যাপারে সরকার শ্রমিকদের সঙ্গে বোঝাপড়ারা করতে পারে। আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারে। শ্রমিকদের উচিৎ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসা এবং সমাধানের পথ বের করা । মানুষকে জিম্মি করে কোন আন্দোলনর ফসল ঘরে তোলার মানসিকতা কারও থাকা উচিৎ না।

- বিজ্ঞাপন -

এদিকে গত দুদিনের পরিবহন ধর্মঘটের ফলে মানুষজন কোথাও যেতে পারছেন না। তারা বিভিন্ন জায়গায় আটকা পড়ে আছেন। মহিলা, শিশু এবং বৃদ্ধরা দুর্ভোগে পড়েছেন বেশী। ধর্মঘটে গাড়ি চলবে না – এমনটা হতে পারে। কিন্তু পথচারীদের গায়ে, মেয়েয়ের শরীর ও পোশাকে কালি লেপ্টে দেয়া হবে এমন প্রত্যাশা কারও কাম্য নয়। শ্রমিক আন্দোলনের আদর্শ ভুলে গেলে চলবে না। শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় জনগণের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। জনগণকে শত্রুর কাতারে ফেলে কোন আন্দোলনকে সফল করা সম্ভব নয়।
রবিবার পরিবহন ধর্মঘট চলাকালে পোড়া মবিল চালকের মুখে, ছাত্রীদের পোশাকে লাগিয়ে দেয়া হয়। সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে ধর্মঘটী পরিবহন শ্রমিকদের হাতে নারায়ণগঞ্জে শিক্ষার্থী, গাড়ির চালকসহ নানা শ্রেণির মানুষ লাঞ্ছিত হয়েছেন। পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে দারুণভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন পথের যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রবিবার সকাল থেকে পরিবহন শ্রমিকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, শিমরাইলসহ বিভিন্ন স্থানে লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেয় এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়।

পরিবহন শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে আছে, সড়ক দুর্ঘটনার সব মামলা জামিনযোগ্য করা, দুর্ঘটনায় চালকের পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল করা, চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির পরিবর্তে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত করা, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার মামলার তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখা, পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা, ওয়ে স্কেলে জরিমানা কমানো ও শাস্তি বাতিল এবং গাড়ি নিবন্ধনের সময় শ্রমিক ফেডারেশন প্রতিনিধির প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করা।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীতে বাস চাপায় দুই স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর সারা দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা সড়ক পরিবহন আইন পাস করে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা অনুমান করব আপনি এর সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি যদি চান তবে আপনি অপট-আউট করতে পারেন। স্বীকারআরও পড়ুন