নিউজপ্রেসবিডি । NewsPressBD
সত্য, সম্পূর্ণ সত্য এবং কেবলমাত্র সত্য

পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে না – ডিএমপি কমিশনার

সম্পাদকের ভাষাঃ

২১

পুলিশের কোন সদস্য যদি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে তবে তাকেও শাস্তি পেতে হবে- ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়ার এই বক্তব্য দেশবাসীকে আশান্বিত করেছে। পুলিশ এগিয়ে এলে কোন অপরাধী টিকে থাকতে পারবে না। অপরাধীকে ধরা দিতেই হবে।

ডিএমপি কমিশনার শনিবার শাহবাগ পুলিশ বক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন। আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, কোন পুলিশ সদস্য যদি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে গাড়ি চালান- তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ সদস্য বা কর্মকর্তাদের গাড়িতে ব্লু বুক এবং বৈধ লাইসেন্স থাকত হবে। তাদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। ট্রাফিক সচেতনতা সৃষ্টির মাসব্যাপী কর্মসূচির এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন তিনি। ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশরা আইনের ঊর্ধ্বে না। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জন্যে ইতিমধ্যেই কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আরও অনেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনেক সময় প্রভাবশালীদের কারণে পুলিশকে আপস করতে হয়। তাই বলে আমরা বসে থাকব না। তিনি রাস্তায় গাড়ি চলাচলের প্রতিযোগিতা না করার জন্যে চালক- মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলন, রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠা-নামা করা যাবে না। যে কোন মূল্যে এই প্র্যাকটিস বন্ধ করতে হবে। পথচারীরা রাস্তা পারাপারে ট্রাফিক নিয়ম ও আইন মেনে চলবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন পথচারীরাপথচারী সেতু ও জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করেন না। অনেক পথচারী রাস্তা পারাপারের সময় মোবাইল ফোনে কথা বলতে থাকেন। সড়ক দুর্ঘটনার জন্যে শুধু ড্রাইভারদের দোষ দিলে চলবে না।

- বিজ্ঞাপন -

ওই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ. আখতারুজ্জামান বলেন, রাজধানী ঢাকায় পথচারীদের পারাপারে আন্ডার-পাস কম।এই ধরণের ব্যবস্থা ছাড়া মানুষের চলাচলকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা যাবে না। নিরাপদ সড়ক চাই এর সভাপতি চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ ট্রাফিক আইন মানেন না। পুলিশের একার পক্ষে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। তিন মাস সময় নিয়ে ট্রাফিক আইন মেনে চলার সকল নিয়ম কানুন ট্রাফিক পুলিশ, বাস মালিক ও চালকদের শিখতে হবে বলে অনুষ্ঠানে মত প্রকাশ করা হয়।

আশার কথা ডিএমপি কমিশনার যিনি একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তিনি স্বীকার করেছেন যে পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে না। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে পুলিশ সদস্যকেও শাস্তি পেতে হবে। বাস মালিক, ড্রাইভারদের যেমন গাড়ি চলাচলের নিয়ম ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে এবং পথচারীকেও সতর্ক হতে হবে রাস্তা পারাপারে। এই ক্ষেতে শুধু গাড়ির চালকদের দায়ী করলে চলবে না। নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে। ঢাকা একটি ব্যস্ততম বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রীভূত মহানগরী। জনসংখ্যার চাপ রয়েছে এখানে অত্যধিক। এই অবস্থায় পথ চলাচলে সতর্ক ও সজাগ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একটু বেখেয়ালি হলেই দুর্ঘটনা পতিত হতে পারেন। কথায় আছে ‘সাবধানের মার নেই’। এই কথা মেনে চলতে হবে। চালক, মালিক, পথচারী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন সজাগ হলে , সতর্ক থাকলে সড়ক দুর্ঘটনা কমতে বাধ্য। কারণ লোক চাপা দিয়ে মারা চালকদের পেশা নয় বা এমনতর মানসিকতা পোষা উচিতও নয়। তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে যানবাহন চলাচলে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। মেনে না চললে আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। মানুষের প্রাণ বাঁচাতে বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে এবং জীবনহানির ঘটনা কমাতে হবে। তবেই তো সমাজে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে। এজন্যে চাই সকলের সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা।আমরা ডিএমপি কমিশনারের এমন খোলামেলা বক্তব্যকে অভিনন্দন জানাই এবং পুলিশ যদি ইচ্ছা করে তবে সকল অনিয়ম দূর করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।পুলিশ অতীতেও জনগণের বন্ধু ছিল এবং আগামীতেও বন্ধু থাকবে, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা সর্বত্র মানুষের পাশে থাকবে এমন প্রত্যাশা সকলের।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা অনুমান করব আপনি এর সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি যদি চান তবে আপনি অপট-আউট করতে পারেন। স্বীকারআরও পড়ুন