নিউজপ্রেসবিডি । NewsPressBD
সত্য, সম্পূর্ণ সত্য এবং কেবলমাত্র সত্য

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি ঘোষণা ৮০০০ টাকা, কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের প্রত্যাখান

৫১

গ্রার্মেন্টস শ্রমিকরা সরকার ঘোষিত ন্যুনতম মজুরির নিয়ে এখনো দরকষাকষির মধ্যে রয়েছে। তবে সরকার পোশাক শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি ৮০০০ টাকা ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণা অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠনগুলো মেনে নিয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো নিয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু ন্যুনতম মজুরি ৮০০০ টাকা ঘোষণা দেন। শ্রমিকরা ১৬ হাজার ন্যুনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। সিপিডি’র প্রস্তাব ১০ হাজার টাকা।

শ্রমকিদের একটি সূত্রমতে গার্মেন্টস সেক্টরে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের মজুরি বর্তমানের চেয়ে ৫১ শতাংশ বেড়েছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর ৫ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে দেওয়ার পর সেই হারে বেতন পাচ্ছিলেন শ্রমিকরা। এবার শ্রমিক সংগঠনগুলো ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি করেছিলেন। এর বিপরীতে পোশাক শিল্প মালিকরা প্রস্তাব করেন ৬ হাজার ৩৬০ টাকা। গবেষণা সংস্থা সিপিডি ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার টাকা করার পক্ষে মত জানিয়েছিল।

- বিজ্ঞাপন -

পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্মূল্যায়নে পাঁচ বছর পর গত জানুয়ারিতে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। মজুরি বোর্ডের সদস্যরা দফায় দফায় বৈঠক করে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে।বৃহস্পতিবার ঢাকার তোপখানা সড়কে মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে সর্বশেষ বৈঠক হয়। এরপর মজুরি বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি কাঠামোর ঘোষণা দেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।

ঘোষণা অনুযায়ী, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে বেসিক ৪ হাজার ১০০ টাকা; বাড়ি ভাড়া ২০৫০ টাকা; চিকিৎসা ভাতা ৬০০ টাকা; যাতায়াত ভাতা ৩৫০ টাকা; খাদ্য ভাতা ৯০০ টাকা। প্মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, আপাতত ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হল। অন্য শ্রমিকদের বেতন-কাঠামো পরে ঘোষণা করা হবে। আগামী ডিসেম্বরে প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পরে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য কামাল উদ্দিন, বোর্ডে মালিকদের প্রতিনিধি বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, শ্রমিকদের প্রতিনিধি শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বেগম শামসুন্নাহার ভূইয়া আওয়ামী লীগের শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু উপস্থিথ ছিলেন।

নতুন মজুরি কাঠামো মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষ মেনে নেবে বলে প্রতিমন্ত্রী চুন্নু আশা প্রকাশ করলেও এই মধ্যে আপত্তি আনিয়েছে বামপন্থি শ্রমিক সংগঠনগুলো। বিকাল ৩টায় মজুরি বোর্ড যখন তোপখানার কার্যালয়ে সভা করছিল, তখনই ভবনের নিচে বিক্ষোভ করছিল গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, শ্রমিক সংহতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সাড়ে ৪টার দিকে সভা শেষ করে যখন মজুরি বোর্ডের সদস্যরা সচিবালয়ে যাচ্ছিলেন, তখন বিক্ষুব্ধ কয়েকশ জন স্লোগান দিচ্ছিলেন- ‘১৬ হাজার টাকার কমে ন্যূনতম মজুরি মানব না’। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থক শ্রমিক নেতারা মজুরি বোর্ডের ঘোষণা মেনে নিলেও অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠন এই মজুরি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তৈরি পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণে দৃশ্যত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প কারখানার শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো অনুসরণ করেছে সরকার। সম্প্রতি শ্রম প্রতিমন্ত্রী চুন্নু রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প কারখানার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি শতভাগ বাড়িয়ে ৮৩০০ টাকা করার প্রস্তাব সংসদে তোলেন। বর্তমানে এই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৪ হাজার ১৫০ টাকা।

এদিকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থকে ঘোষিত ন্যুতম মজুরি প্রত্যাখান করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার সংগঠনের জরুরি বৈঠক থেকে সহ-সভাপ্রধান হাসান মারুফ রুমী, সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শামা এক বিবৃতিতে ঘোষিত মজুরি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের অভিভাবক। তিনি যেমন মালিকের সুবিধা-অসুবিধা দেখবেন আবার শ্রমিকের দাবি-দাওয়াও দেখবেন সমানভাবে। কিন্তু লক্ষ্য করলাম আমরা রফতানি আয়ের ৮৩ ভাগ অর্জনকারী। শ্রমিকরা বেঁচে থাকার জন্য দাবি করেছিল ১৬ হাজার টাকা। মালিকদের কথায় প্রধানমন্ত্রী ৫০ ভাগ ঘুরে গেলেন তাদের দিকে। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাস্তবসম্মত মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিকরা কারখানা ফেলে রাজপথে নেমে আসলে তার দায়দায়িত্ব মালিক ও সরকারকেই বহন করতে হবে।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক প্রতিনিধিরা ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছিলেন। অন্যদিকে মালিকপক্ষ ৭ হাজারের বেশি দিতে রাজী হচ্ছিলেন না। এ নিয়ে গত কয়েক মাসে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। প্রতিমন্ত্রী জানান, এই অচলাবস্থা নিরসনে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেন। তিনি মালিকপক্ষকে ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করার জন্য সুপারিশ করেন। শেষ পর্যন্ত মালিকপক্ষ এবং শ্রমিকপক্ষ এই সুপারিশ মেনে নিয়েছেন। মজুরি বোর্ড থেকে এই প্রস্তাব পাঠানোর পর শ্রম মন্ত্রণালয় তা গ্রহণ করে ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, নতুন বেতন কাঠামোতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মূল বেতন হবে ৪ হাজার ১শ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ২ হাজার ৫০ টাকা। সব মিলিয়ে ন্যূনতম বেতন দাঁড়াবে ৮ হাজার টাকা। তিনি জানান, আগামী জানুয়ারি মাস থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলমও এক বিবৃতিতে শ্রম প্রতিমন্ত্রী ঘোষিত নিম্নতম মজুরি প্রত্যাখ্যান করেন। শ্রমিকদের আকাঙ্ক্ষা ও বাজার দরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ১৬ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণার দাবি জানান তারা।

বৃহস্পতিবার ১৬ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ের নিচে এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন শ্রমকি সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিক্ষোভ করছিল শ্রমিকরা। পোশাক শ্রমিক নেতা মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের বলেন, এই মজুরি কাঠামার মাধ্যমে শ্রমিকদের আকাঙ্ক্ষার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে মালিকরা, তাদের সাথে যোগ দিয়েছে সরকার। ১২টি সংগঠনের জোট গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়কারী মাহবুবুর রহমান ইসমাইল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এই মজুরি মানি না। শুক্রবার আমরা প্রতিবাদ কর্মসূচি করব। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি পুনর্বিবেচনা করবেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা অনুমান করব আপনি এর সাথে ঠিক আছেন, তবে আপনি যদি চান তবে আপনি অপট-আউট করতে পারেন। স্বীকারআরও পড়ুন